জাতীয়

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই : শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই : শিক্ষামন্ত্রী

চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সারা দেশে একযোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোথাও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ এলে তা যাচাইয়ের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে আগে থেকেই সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য সাইবার ক্রাইম কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যাতে কোনো অনিয়ম ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

আকস্মিক কেন্দ্র পরিদর্শন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি গোপনীয়তা বজায় রেখেই বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। আগাম তথ্য প্রকাশ পেলে পরিদর্শনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কেন্দ্রগুলো সকাল ৮টা থেকে খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরীক্ষা দিতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

জ্বালানির সঙ্গে নিত্যপণ‍্যের দামও ‘যৌক্তিকভাবে’ সমন্বয় হবে : ডা. জাহেদ
জ্বালানির সঙ্গে নিত্যপণ‍্যের দামও ‘যৌক্তিকভাবে’ সমন্বয় হবে : ডা. জাহেদ
আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল খননের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
আহত চিকিৎসককে দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আহত চিকিৎসককে দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সারাদেশ

বিএসএফ জানালে খবর পেল বিজিবি, সীমান্তে ২০০ গরু পার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড
বিএসএফ জানালে খবর পেল বিজিবি, সীমান্তে ২০০ গরু পার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

রাজশাহীর পবা উপজেলার সীমান্ত এলাকার চরখানপুরে প্রায় ২০০ গরু সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিজিবি) বিষয়টি জানতে পেরেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) কাছ থেকে। বিএসএফ সীমান্ত অতিক্রম করা গরুর ছবি তুলে খবর পাঠানোর পর টনক নড়ে বিজিবির।

এই ঘটনায় বিজিবির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা, কৃষকদের নির্যাতন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) নগরীর অদূরে পদ্মা নদীর ওপারের চরখানপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, চরের ৬০ বিঘা এলাকায় একদল রাখাল গরু চরাচ্ছিল। ঘাস খেতে খেতে গরুগুলো ভারতীয় সীমানার অনেক ভেতরে ঢুকে পড়ে। বিএসএফ গরুগুলোর ছবি তুলে বিজিবিকে খবর দিলে চরখানপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ তড়িঘড়ি করে সেগুলো ফিরিয়ে আনেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সীমান্তে নিয়মিত টহল ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা বিজিবি কেন আগে থেকে বিষয়টি জানতে পারল না? যদি গরুর বদলে মাদক বা অস্ত্র পাচারকারীরা প্রবেশ করত, তবে তার দায় কে নিত?

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনার পর কৃষকদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং ‘খোয়াড়ের’ নামে বিপুল অংকের টাকা আদায় করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গরু মালিক মেরাজুল, সিজান ও আনারুলসহ অনেকে জানান, তারা সাধারণ কৃষক এবং সীমান্তের জটিল নিয়ম বোঝেন না। বিজিবির উচিত ছিল তাদের সতর্ক করা। কিন্তু তা না করে বিজিবি সদস্যরা তাদের মারধর করেন এবং গরু প্রতি টাকা দাবি করেন।

কৃষকদের দাবি, তারা সরাসরি বিজিবি সদস্যদের হাতে টাকা দিয়েছেন, যদিও বিজিবি দাবি করছে টাকা খোয়াড়ের ইজারাদারের কাছে গেছে।

টাকা আদায়ের হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার ১৮০টি গরুর বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে। অথচ বিজিবির দাবি, ১২০টি গরুর বিপরীতে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।

এদিকে খোয়াড়ের ইজারাদার সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কোনো টাকা তোলেননি; পরে গ্রামের লোকজন তাকে ১২ হাজার ৩০০ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে।

ঘটনাটি বুধবারের হলেও তা সরকারি নথিতে নথিবদ্ধ করা হয়েছে শুক্রবার বিকেলে, যা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ক্যাম্প ইনচার্জ সুবেদার সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে। তবে বুধবারের ঘটনা কেন শুক্রবার এন্ট্রি করা হলো—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

চরখানপুর গ্রামের মানুষের আয়ের মূল উৎস গবাদিপশু এবং রাজশাহীর দুধের চাহিদার বড় অংশ এখান থেকেই মেটে। সীমান্তবর্তী এই অসহায় মানুষগুলো এখন বিজিবির এমন অপেশাদার আচরণের প্রতিকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন।

রেলওয়ের সাবেক প্রকৌশলী রমজান আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ, বরখাস্ত হলেও থামেনি তদন্ত
রেলওয়ের সাবেক প্রকৌশলী রমজান আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ, বরখাস্ত হলেও থামেনি তদন্ত
টুঙ্গিপাড়ায় সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার 
টুঙ্গিপাড়ায় সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার 
টুঙ্গিপাড়ায় হাতুড়ি পেটায় বিধবা নারীর নিহতের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
টুঙ্গিপাড়ায় হাতুড়ি পেটায় বিধবা নারীর নিহতের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বিনোদন

মা হচ্ছেন চিত্রনায়িকা পূজা
মা হচ্ছেন চিত্রনায়িকা পূজা

বলিউড আর টলিউড- দু’ জায়গােই জমিয়ে কাজ করছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই অভিনেত্রীর পরিবারে এলো আবারও খুশির খবর। ২০২০ সালে করোনা লকডাউন চলাকালীন প্রথমবার মা হয়েছিলেন। আর এবার দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পালা।

২০২০- এর লকডাউনে তড়িঘড়ি আইনি বিয়ে করেন কুণাল ও পূজা। আর বিয়ের কয়েকমাসের মধ্যেই কোলে আসে ছেলে। শোনা যায় ২০১৭ সালই নাকি হয়ে গিয়েছিল বাদগান। মঙ্গলবার একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন অভিনেত্রী। যেখানে প্রথমেই দেখা যায় একটি প্রেগন্যান্সি কিট। যার রিপোর্ট পজিটিভ। এরপর দেখা যায়, অন্তঃসত্ত্বাকালীন অবস্থায় বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা, দুর্বলতা, ক্লান্তি। শুয়ে আছেন মনমরা হয়ে। আর ঠিক তখনই মা-কে চাঙ্গা করতে আসরে নামে কৃষিভ। হামিতে ভরিয়ে দেয় মাকে। নিজের বেবিবাম্পও দেখিয়েছেন পূজা। ভিডিয়োটি শেয়ার করে লেখেন, ‘প্রেগন্যান্সির সমস্যা ও সমাধান।’

পূজার ‘গুড নিউজ’ পেতেই তাঁকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরিয়েছে নেটপাড়া। যদিও কবে কোলে আসছে দ্বিতীয় সন্তান, তা জানাননি অভিনেত্রী।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পূজা ও কুণালের প্রথম সন্তান কৃষভের জন্ম হয়। প্রায় ছয় বছরের ব্যবধানে তাঁদের পরিবারে আবারও নতুন অতিথি আসতে চলেছে। কৃষভ এবার বড় ভাই হতে চলেছে, যা নিয়ে পরিবারে বাড়তি আনন্দ দেখা দিয়েছে।

প্রকাশ পেলো মনির খানের মিউজিকাল ফিল্ম ‘ফিরতে তোমায় সাধবো না আর’
প্রকাশ পেলো মনির খানের মিউজিকাল ফিল্ম ‘ফিরতে তোমায় সাধবো না আর’
‘মাইন্ড ব্লোইং মিডিয়া’ কাস্টিং হাউসের শুভ সূচনা; নতুনদের জন্য সুযোগের বার্তা
‘মাইন্ড ব্লোইং মিডিয়া’ কাস্টিং হাউসের শুভ সূচনা; নতুনদের জন্য সুযোগের বার্তা
বৈশাখে এলো তাদের ‘পান্তা ইলিশ’
বৈশাখে এলো তাদের ‘পান্তা ইলিশ’

রাজনীতি

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সা: সম্পাদক রিটনের দোয়া প্রার্থনা
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সা: সম্পাদক রিটনের দোয়া প্রার্থনা

বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় সকল ধর্মাবলম্বীর মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর সুস্থতার জন্য শুধু বিএনপি পরিবার নয়, দেশপ্রেমে বিশ্বাসী সব মানুষ—মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মাবলম্বীর কাছে আন্তরিক দোয়া কামনা করছি।”

রিটন আরও বলেন, “একজন জননেত্রী হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমরা সবাই তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।”

তিনি খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “তাঁর চিকিৎসা যেন আরও উন্নতভাবে সম্পন্ন হয় এবং তিনি যেন সুস্থ হয়ে দেশের মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারেন—এই কামনায় সবাইকে দোয়া করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শক্রমে এয়ারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। রাতেই মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানান, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে। বর্তমানে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আবু নাসের শেখ
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আবু নাসের শেখ
‘নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকবে না এনসিপি’: সরকারি সুবিধায় গড়া নতুন দল নিয়ে ক্ষোভ ফারাবির
‘নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকবে না এনসিপি’: সরকারি সুবিধায় গড়া নতুন দল নিয়ে ক্ষোভ ফারাবির
তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার করবেন না: কুড়িগ্রামে রিজভী আহমেদ
তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার করবেন না: কুড়িগ্রামে রিজভী আহমেদ

শিক্ষা

গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি: আগামীকালের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি: আগামীকালের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

গোপালগঞ্জ জেলায় আগামীকাল (১৭ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত শুধু গোপালগঞ্জ জেলার জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামীকাল সকাল থেকেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালে এইচএসসি পরীক্ষার ভূগোল (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তবে ওই জেলার পরিস্থিতি বিবেচনায় তা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া, পরীক্ষার বিকেল সেশনে যেসব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, গোপালগঞ্জ জেলায় সেগুলোরও পরীক্ষা হবে না।

এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থগিত হওয়া ভূগোল (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশ ও অন্যান্য কার্যক্রম ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় আজ বুধবার রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। আগামীকাল (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে।

এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Author

ক্যাম্পাস

পায়ে হেঁটে ১৫০ কিঃমিঃ পরিভ্রমণে গোবিপ্রবির ২ গার্ল ইন রোভার
পায়ে হেঁটে ১৫০ কিঃমিঃ পরিভ্রমণে গোবিপ্রবির ২ গার্ল ইন রোভার

প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ থেকে ২ জন গার্ল ইন রোভার, কোটালিপাড়া উপজেলা পরিষদ থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ১৫০ কিঃমিঃ পথ পরিভ্রমণ করছে।

গার্ল ইন রোভারদের মধ্যে ২০২১-২২ সেশনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ফারিহা এবং ২০২৩-২৪ সেশনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মিস শামিমা আক্তার। তাদের সঙ্গে কোটালিপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের আরো ২ জন গার্ল ইন রোভার যুক্ত হবে।

আজ ২৭ অক্টোবর ২০২৫ সোমবার সকাল ৬.৩০ মিনিটে কোটালিপাড়া উপজেলা পরিষদ থেকে যাত্রা শুরু করছে এবং আগামী ৫ দিন পায়ে হেঁটে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালীতে শেষ করবে। যাত্রা পথে তারা উজিরপুর, বরিশাল, বরগুনা-আমতলী, পটুয়াখালী এবং সর্বশেষ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাত্রাবিরতি করবে।

প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের লক্ষ্যে ছয়টি পারদর্শিতা ব্যাজের অন্তর্ভুক্ত একটি পরিভ্রমণকারী ব্যাজ।
পরিভ্রমণকারী ব্যাজ অর্জনের লক্ষ্যে তারা ১৫০ কিঃমিঃ পথ পরিভ্রমণ করবে। এছাড়াও আরো অন্য ভাবে পরিভ্রমণ করার নিয়ম রয়েছে। যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষি, সংস্কৃতি, আর্থ সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়াও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে যেমন মেয়েদের টিটি টিকা সম্পর্কে সচেতন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করবে।

গার্ল ইন রোভার ফারিহা বলেন, পরিভ্রমণ হচ্ছে এমন একটি পদযাত্রা যা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ করে তোলে। মূলত সকল বাধা বিঘ্ন পার করে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এছাড়া আমরা বিভিন্ন সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ভ্রান্ত ধারণা পরিবর্তন করে সুস্থ সুন্দর সমাজ বিনির্মানে অংশ নিতে পারবো।

গোবিপ্রবি প্রশাসনের বর্ষপূর্তিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিয়ম
গোবিপ্রবি প্রশাসনের বর্ষপূর্তিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিয়ম
গোবিপ্রবিতে কর্মকর্তাদের ডিজিটাল অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু
গোবিপ্রবিতে কর্মকর্তাদের ডিজিটাল অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

সাহিত্য

কথাসাহিত্যে চিন্তা অসীম, চিত্রনাট্যে সীমিত- শফিক রিয়ান
কথাসাহিত্যে চিন্তা অসীম, চিত্রনাট্যে সীমিত- শফিক রিয়ান

নাটকের অঙ্গনে নতুন এক যাত্রা শুরু করেছেন কথাসাহিত্যিক শফিক রিয়ান। লেখালেখির ভুবনে দীর্ঘদিনের পথচলার পাশাপাশি এবার তিনি প্রবেশ করছেন চিত্রনাট্যের জগতে। গল্পকে শব্দ থেকে পর্দায় আনার এই যাত্রাটা তার কাছে যেমন নতুন, তেমনি রোমাঞ্চকরও।

তিনি বলেন, ‘কথাসাহিত্যের ঘর থেকে নাটকের অঙ্গনে প্রবেশ করছি, তাই দিনরাত কাটছে গল্প ভেবে ভেবে। কল্পনায় গল্পেরা কোলাহল করছে, আর আমি তাদের মঞ্চায়ন করার জন্য একটা সঠিক ভঙ্গিমা খুঁজছি।’

কথাসাহিত্য থেকে নাটকে প্রবেশের যাত্রা সম্পর্কে রিয়ান জানান, ‘কথাসাহিত্যে চিন্তা করার সীমানাটা অসীম। চিত্রনাট্যে সেই সুযোগটা নেই। এখানে ভাবতে হয় দৃশ্যে দৃশ্যে। একটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কথাটা বলে শেষ করতে হয়। এই জায়গাটা খানিক চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জটাই আমাকে কাজ করতে আরো বেশি উদ্বুদ্ধ করছে।’

প্রথমবার নাটকের জন্য চিত্রনাট্য লেখার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথমবার নাটকের জন্য লিখতে গিয়ে মনে হলো, আমি যেন নিজের গল্পকে ভিন্ন চোখে দেখছি। প্রতিটি সংলাপ শুধু কাগজে নয়, অভিনেতার কণ্ঠে বেজে উঠছে। মনে হচ্ছিল, কল্পনা আর বাস্তবতার জগৎ একসাথে এসে মিশে গেছে।’

কথাসাহিত্যিক থেকে চিত্রনাট্যকার হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কথার জাদু, শব্দের গাঁথুনি আমাকে সবসময় টানে, কিন্তু গল্পের দেহ দিতে হলে মঞ্চ বা পর্দাও দরকার। তাই কথাসাহিত্যিক থেকে চিত্রনাট্যকার হওয়ার ইচ্ছে আসলে গল্পকে আরেকটা নতুন জীবন দেয়ারই প্রয়াস।’

নাটকের গল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্ব দেন মানবমনের টানাপোড়েন ও সম্পর্কের অজানা বাঁকে। তার ভাষায়, ‘গল্প বাছাই করার সময় আমি খুঁজেছি মানবমনের টানাপোড়েন, সম্পর্কের অনাবিষ্কৃত মোড়, আর সময়ের প্রতিধ্বনি। নাটক এমন হতে হবে, যেন তা দর্শককে নিজের ভেতর প্রশ্ন জাগায়।’

নিয়মিত নাটক ও চিত্রনাট্যে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নাটক ও চিত্রনাট্যের পথে নিয়মিত হেঁটে চলার ইচ্ছে আছে। প্রতিটি কাজে নতুনত্ব আনতে পারলেই কেবল আমি কাজ চালিয়ে যাব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শফিক রিয়ান বলেন, ‘আগামীতে সামাজিক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা আর মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন নিয়ে কয়েকটি নাটকের ব্যাপারে ভাবছি। কিছু কিছু লেখাও শুরু করেছি, এবার শুধু মঞ্চে উঠবার অপেক্ষা।’

গল্পকে নতুন জীবন দিতে চাই 
গল্পকে নতুন জীবন দিতে চাই 
বইমেলায় রাসেদ শিকদারের দ্বিতীয় বই
বইমেলায় রাসেদ শিকদারের দ্বিতীয় বই
বইমেলায় এমদাদ হোসেনের “খুচরো পয়সার মতো তোমাকে জমাই”
বইমেলায় এমদাদ হোসেনের “খুচরো পয়সার মতো তোমাকে জমাই”

মতামত

বরেন্দ্রর বিবর্ণ ভূগোল: রাজশাহীতে খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের দহনে অস্তিত্বের সংকটে কৃষি ও কৃষক
বরেন্দ্রর বিবর্ণ ভূগোল: রাজশাহীতে খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের দহনে অস্তিত্বের সংকটে কৃষি ও কৃষক

রাজশাহীর বুকে যখন রৌদ্রঝলসা আষাঢ় মাসের সূর্য নেমে আসে মাথার ঠিক ওপরে, তখন ধানখেতে জল থাকে না, পুকুরে জমে থাকা কাদার স্তর হাঁটু ছুঁয়েই থেমে যায়, আর কৃষকের চোখে খেলে যায় এক বিষণ্ন তৃষ্ণার ছায়া। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ—পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও শত নদী-নালায় গড়া এই ভূখণ্ড দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত ছিল উর্বরতার প্রতীক হিসেবে। অথচ সেই দেশেরই উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত বরেন্দ্র অঞ্চল যেন হয়ে উঠেছে এক নিঃশব্দ অভ্যন্তরীণ মরুভূমি, যেখানে পানির জন্য হাহাকার প্রতিদিনের বাস্তবতা।

খরা এখানে নতুন কিছু নয়, এটি বরেন্দ্রের ইতিহাসে দীর্ঘদিনের সঙ্গী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ায় এই খরার চরিত্র আরও হিংস্র, আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির মৌসুমে বৃষ্টি হয় না, বর্ষার পানির বদলে আকাশ থেকে নামে ঝাঁঝালো তাপ, আর ফাটল ধরে জমির বুকে—ঠিক যেন সেখানে জীবনের নয়, মৃত্যুর বীজ বপন হচ্ছে। কৃষকরা আজ আর আগের মতো মৌসুমের উপর নির্ভর করে চাষ করতে পারছে না, কারণ বর্ষা আর শীতের ছন্দে যে নিয়মিতা ছিল কৃষির ক্যালেন্ডার, সেটি এখন এলোমেলো। একসময় বরেন্দ্রের মাটিতে দেশি ধান স্বাভাবিকভাবে ফলত, এখন তার বীজ পর্যন্ত শুকিয়ে যায় মাটির গর্ভে জল না পেয়ে।

গভীর নলকূপ কিংবা সেচ প্রকল্পের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, অথচ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে, যা কৃষির টেকসই ভিত্তিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। এই সংকট শুধু কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত এক জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে। পানি নেই, তাই মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তরুণেরা শহরমুখো হচ্ছে, নারীরা সংগ্রাম করছে প্রতিদিনের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন নিয়ে। বরেন্দ্র জনপদ যেন আজ প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের এক ভাঙা আয়না—যেখানে প্রতিফলিত হয় জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম সত্য। অথচ এই সত্যকে আমরা এখনো নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পুরোপুরি গুরুত্ব দিচ্ছি না। খরা আর বরেন্দ্র যেন আর কেবল ভৌগোলিক বাস্তবতা নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক রাজনৈতিক নীরবতা ও অবহেলার প্রতীক।

এই জনপদের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব কৌশল ও জ্ঞান দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে এসেছে—জমিতে চাষাবাদের পদ্ধতি বদলেছে, দেশি ধান, পাট ও ডাল জাতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে—তবু আজ তাদের পক্ষে আর টিকে থাকা সহজ নয়। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞাননির্ভর, জনকেন্দ্রিক এবং জলবায়ু-সচেতন একটি পরিকল্পনা, যা শুধু বরেন্দ্রকে নয়, সমগ্র দেশকে প্রস্তুত করতে পারে আগামীর এক অনিশ্চিত জলবায়ু বাস্তবতার জন্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব বরেন্দ্রে বহুগুণ বেশি প্রকট। মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে অনেক সময় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই করে। এই গরম শুধু মানুষের দেহকে পুড়িয়ে দেয় না, মাটির ভেতরের প্রাণশক্তিকেও শুষে নেয়। শস্য জন্মাতে গেলে প্রয়োজন নির্দিষ্ট আর্দ্রতা ও উষ্ণতা; কিন্তু বরেন্দ্রে সেটি আর পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে বাড়ছে ফসলের ব্যর্থতা, মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং কৃষি খাতে অনিশ্চয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেচনির্ভর চাষাবাদের জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকই এখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে পানি উত্তোলনের খরচ এতটাই বেড়েছে যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত পাম্প, পাইপলাইন স্থাপন, শ্রমিকের মজুরি—সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে খরচ পড়ছে পূর্বের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই চরম বাস্তবতার নির্মম দৃষ্টান্ত হয়ে আছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘটু গ্রামের ঘটনা। ২০২২ সালের ২৩ মার্চ সেখানকার দুই সাঁওতাল কৃষক—অভিনাথ মারান্ডি ও তাঁর চাচাতো ভাই রবি মারান্ডি বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন। তাঁদের পরিবারের ভাষ্যমতে, স্থানীয় একটি গভীর নলকূপ অপারেটর ১২ দিন ধরে পানি সরবরাহ না করায় বোরো ধানের খেত শুকিয়ে ফেটে যায়। চোখের সামনে সারা বছরের স্বপ্ন ধ্বংস হতে দেখে হতাশা ও ক্ষোভে তাঁরা আত্মহননের পথ বেছে নেন। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়, বরেন্দ্র জনপদের অগণিত প্রান্তিক কৃষকের নিঃশব্দ আর্তনাদের প্রতীক হয়ে আছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফলন হ্রাসের করুণ বাস্তবতা। ধান, গম, আলু, ডাল—সব খানেই ক্ষতি। একটি মৌসুম পার করেই কৃষক ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। কেউ জমি বন্ধক রাখছেন, কেউবা চাষ ছাড়ছেন। এক অদৃশ্য ঋণের দুষ্টচক্রে আটকা পড়ে কৃষিজীবীরা পরিণত হচ্ছেন শহরমুখী অভিবাসীতে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আশার কথা হতে পারত কৃষিতে অভিযোজন কৌশল। কিন্তু সেখানেও বড় রকমের ঘাটতি আছে। এখনো অধিকাংশ কৃষক পানি-নির্ভর উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের উপর নির্ভর করছেন, যেখানে প্রয়োজন ছিল খরা সহিষ্ণু দেশীয় জাত ছড়িয়ে দেওয়া।

একসময় উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানের মাঠ মানেই ছিল দেশীয় জাতের সুশোভিত বিস্তার—গোবিন্দভোগ, জামাইভোগ, মোগাইবালাম, রূপকথা, শনি, পরাঙ্গী, কালামানিক, কালাবকরী, রাঁধুনীপাগল কিংবা পাঙ্গাসের মতো জাতগুলো শুধু ফসল নয়, ছিল গ্রামীণ জীবনের আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। এই জাতের ধানগুলো অপেক্ষাকৃত কম পানিতে ভালো ফলন দিত এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য ছিল আদর্শ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব জাত এখন হারিয়ে যাচ্ছে। হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল ধানের আগ্রাসনে দেশীয় ধানগুলো পেছনে পড়ে গেছে—আর সেই সঙ্গে বদলে গেছে চাষাবাদের খরচের কাঠামো ও কৃষকের জীবনধারা।

এখন হাইব্রিড জাতের ধান চাষে কৃষকদের বেশি সেচ দিতে হয়, ফলে সেচ খরচ বেড়েছে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, যা একদিকে পরিবেশ দূষণ করছে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকগুণ। যে ভূগর্ভস্থ পানি আগে শস্যচক্রে সঞ্চিত থাকত, আজ তা অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে। পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সেচনির্ভর এই কৃষি ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

অথচ কৃষকেরা স্মরণ করেন সেই সময়, যখন দেশি ধান চাষের ব্যয় ছিল কম, জমির স্বাস্থ্যের ক্ষয় ছিল না, আর ধান কাটার পর গ্রামে বইত উৎসবের হাওয়া। নতুন ধান উঠলে তৈরি হতো চিড়া, খই, মুড়ি, পিঠা-পায়েস—অন্ন আর আনন্দের সেই দিন আজ কেবল স্মৃতিতে। ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া বা বিলুপ্তপ্রায় হয়ে যাওয়া দেশি ধানের তালিকায় উঠে এসেছে: দুমড়া, চাপালো, কাচাননী, ধলকাচাই, গড়িয়া, মৌমাইল, জশোয়া, নীলকমর, নয়ারাজ, বসি, বেতো, পানিশাইল, শাইল্যা, বেগুনবিচি ইত্যাদি। এই ধানগুলো শুধু একটি কৃষি পদ্ধতির নাম ছিল না, ছিল একটি সংস্কৃতির অংশ, যা আজ হারানোর পথে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—আমরা কি শুধুই উৎপাদনের সংখ্যাতত্ত্ব দেখব, নাকি খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ, সংস্কৃতি ও কৃষকের অস্তিত্বকেও গুরুত্ব দেব?

অবস্থার জটিলতা শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়। খরার ফলে পানির সঙ্কটে পড়েছে মানুষ ও গবাদিপশু। গ্রামীণ নারীদের দৈনন্দিন জীবনে এর চরম প্রভাব পড়ে—তাদের দিনে দুই-তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনতে হয়। স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, সময় অপচয় হয়, আর শিক্ষা বা আয়মুখী কাজে তাদের অংশগ্রহণ কমে যায়। শিশুরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, আর পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় জীবনযাপন করছে।

সরকারি পর্যায়ে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয় হলেও অনেক সময়ই প্রযুক্তিনির্ভর ও খণ্ডিত প্রকৃতির। গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে অনেক, খাল খননের উদ্যোগও হয়েছে। কিন্তু এগুলোর বেশির ভাগই স্থায়ী রূপ নেয়নি। ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় খাল-জলাশয় সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল বৃহত্তর পরিসরে। তদুপরি বরেন্দ্র অঞ্চলকে জলবায়ু পরিবর্তনের ‘ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে বিশেষায়িত করে একটি সমন্বিত অভিযোজন কর্মপরিকল্পনা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে দরকার স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা—যেখানে কৃষক, নারী, যুবক ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিকে কৃষকের কাছে সহজ করে পৌঁছানো এবং পরিবেশবান্ধব চাষপদ্ধতি যেমন মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং ‘সিস্টেম অব রাইস ইন্টেনসিফিকেশন (SRI)’ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। তৃতীয়ত, সামাজিক অভিযোজনের মাধ্যমে বিকল্প জীবিকা, নারীর পানি ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ এবং স্কুলভিত্তিক জলবায়ু শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।

বরেন্দ্র আজ এক সংকটপুঞ্জের নাম। এই সংকটকে শুধুই কৃষি বা খরার পরিভাষায় ব্যাখ্যা করলে আমরা ভুল করব। এটি একটি সার্বিক পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো আমাদের উন্নয়ন-ভবিষ্যতের ছায়াছবি বহন করছে। বরেন্দ্রর ভবিষ্যৎ আমাদের সকলের দায়িত্ব। নীতিনির্ধারকদের উচিত, এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু-সহিষ্ণু নীতিমালা প্রণয়ন, যেখানে কৃষি, পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবিকার প্রশ্নে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা যুক্ত হবে।

আমরা যদি এখনই বরেন্দ্রর প্রতি ন্যায্য নজর না দিই—তবে অদূর ভবিষ্যতে এটি হয়ে উঠবে দেশের প্রথম পরিবেশগত ধ্বংসস্তূপ। সেই দায় শুধু প্রকৃতির না, তা হবে আমাদের নির্বিকার নীরবতার প্রতিচ্ছবি।

লেখক: সৈয়দ নাভিদ আনজুম হাসান
তরুণ গবেষক ও জলবায়ু কর্মী