কথাসাহিত্যে চিন্তা অসীম, চিত্রনাট্যে সীমিত- শফিক রিয়ানকথাসাহিত্যে চিন্তা অসীম, চিত্রনাট্যে সীমিত- শফিক রিয়ান

নাটকের অঙ্গনে নতুন এক যাত্রা শুরু করেছেন কথাসাহিত্যিক শফিক রিয়ান। লেখালেখির ভুবনে দীর্ঘদিনের পথচলার পাশাপাশি এবার তিনি প্রবেশ করছেন চিত্রনাট্যের জগতে। গল্পকে শব্দ থেকে পর্দায় আনার এই যাত্রাটা তার কাছে যেমন নতুন, তেমনি রোমাঞ্চকরও।

তিনি বলেন, ‘কথাসাহিত্যের ঘর থেকে নাটকের অঙ্গনে প্রবেশ করছি, তাই দিনরাত কাটছে গল্প ভেবে ভেবে। কল্পনায় গল্পেরা কোলাহল করছে, আর আমি তাদের মঞ্চায়ন করার জন্য একটা সঠিক ভঙ্গিমা খুঁজছি।’

কথাসাহিত্য থেকে নাটকে প্রবেশের যাত্রা সম্পর্কে রিয়ান জানান, ‘কথাসাহিত্যে চিন্তা করার সীমানাটা অসীম। চিত্রনাট্যে সেই সুযোগটা নেই। এখানে ভাবতে হয় দৃশ্যে দৃশ্যে। একটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কথাটা বলে শেষ করতে হয়। এই জায়গাটা খানিক চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জটাই আমাকে কাজ করতে আরো বেশি উদ্বুদ্ধ করছে।’

প্রথমবার নাটকের জন্য চিত্রনাট্য লেখার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথমবার নাটকের জন্য লিখতে গিয়ে মনে হলো, আমি যেন নিজের গল্পকে ভিন্ন চোখে দেখছি। প্রতিটি সংলাপ শুধু কাগজে নয়, অভিনেতার কণ্ঠে বেজে উঠছে। মনে হচ্ছিল, কল্পনা আর বাস্তবতার জগৎ একসাথে এসে মিশে গেছে।’

কথাসাহিত্যিক থেকে চিত্রনাট্যকার হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কথার জাদু, শব্দের গাঁথুনি আমাকে সবসময় টানে, কিন্তু গল্পের দেহ দিতে হলে মঞ্চ বা পর্দাও দরকার। তাই কথাসাহিত্যিক থেকে চিত্রনাট্যকার হওয়ার ইচ্ছে আসলে গল্পকে আরেকটা নতুন জীবন দেয়ারই প্রয়াস।’

নাটকের গল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্ব দেন মানবমনের টানাপোড়েন ও সম্পর্কের অজানা বাঁকে। তার ভাষায়, ‘গল্প বাছাই করার সময় আমি খুঁজেছি মানবমনের টানাপোড়েন, সম্পর্কের অনাবিষ্কৃত মোড়, আর সময়ের প্রতিধ্বনি। নাটক এমন হতে হবে, যেন তা দর্শককে নিজের ভেতর প্রশ্ন জাগায়।’

নিয়মিত নাটক ও চিত্রনাট্যে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নাটক ও চিত্রনাট্যের পথে নিয়মিত হেঁটে চলার ইচ্ছে আছে। প্রতিটি কাজে নতুনত্ব আনতে পারলেই কেবল আমি কাজ চালিয়ে যাব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শফিক রিয়ান বলেন, ‘আগামীতে সামাজিক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা আর মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন নিয়ে কয়েকটি নাটকের ব্যাপারে ভাবছি। কিছু কিছু লেখাও শুরু করেছি, এবার শুধু মঞ্চে উঠবার অপেক্ষা।’