আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করছেন বিডিক্রিকটাইম ও বিডিস্পোর্টসটাইম এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক মোঃ জাবেদ আলী। ক্রিকেটের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসর কাভারের পর এবার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চেও নিজের অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ফিফার প্রথম অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ সরাসরি কাভার করেছেন এই ক্রীড়া সাংবাদিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত একমাত্র সাংবাদিক ছিলেন তিনি।
২৪ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এতে অংশ নেয় ১৮৯টি দেশের দল। প্রচলিত ফুটবল বিশ্বকাপের মতো নয়, বরং প্রতিটি দলে আটজন করে খেলোয়াড় নিয়ে ৪০ মিনিটের ম্যাচ আয়োজন করা হয়। প্রাথমিক পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে দলগুলোকে ছয়টি টিয়ারে ভাগ করা হয়। প্রতিটি টিয়ারে আলাদা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। টিয়ার E-তে অংশ নিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। সেশেলস ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪–০ গোলে হারায় দলটি। এরপর সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১–০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
৩০ অক্টোবর বাকু ক্রিস্টাল হলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। শিরোপার লড়াইয়ে ৪–১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় দলটি। তবে প্রথম আসরেই বাংলাদেশের এমন সাফল্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের বয়সভিত্তিক দলের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশের এই পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখেছেন জাবেদ আলী। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলারদের আবেগ, আনন্দ, প্রত্যাশা ও হতাশার মুহূর্তগুলোও তুলে ধরেছেন তাঁর প্রতিবেদনে। বিডিক্রিকটাইমের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত বাকু ডায়েরিতে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ঘটনা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে।
শুধু বাংলাদেশের ম্যাচ নয়, বাকুতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলোর খেলাও সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলের তরুণ প্রতিভাদের কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান তিনি। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী এক ফুটবলারের সঙ্গে ছবি তোলা এবং স্পেনের কোচ ডেভিড গোর্দোর কাছ থেকে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের লোগোযুক্ত স্মারক কী-রিং পাওয়া তাঁর সফরের বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
জাবেদ আলীর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার পথচলা অবশ্য শুরু হয়েছিল ক্রিকেটকে ঘিরে। বিডিক্রিকটাইম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্রিকেটভিত্তিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলেন তিনি। এরপর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সরাসরি কাভার করার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমটির কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছেন।
সময় ও চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রিকেটের বাইরেও অন্যান্য খেলার সংবাদ পরিবেশনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় বিডিক্রিকটাইমের সহযোগী সংবাদমাধ্যম হিসেবে বিডিস্পোর্টসটাইম (BDSportsTime) নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার সংবাদ, প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের কাভারেজ বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি নারী এশিয়ান কাপ সরাসরি কাভার করেন জাবেদ আলী। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে অংশগ্রহণের ম্যাচগুলো মাঠে উপস্থিত থেকে তুলে ধরেন তিনি। এরপর আজারবাইজানে ফিফার প্রথম অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল কাভারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সাংবাদিকতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা যুক্ত হলো তাঁর ঝুলিতে।
বাকুর এই প্রতিযোগিতায় টিয়ার A-এর ফাইনালে চেকিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে প্রথম আসরের মূল চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ টিয়ার E-এর রানার্সআপ হয়। তবে প্রতিযোগিতার বিশেষ কাঠামোর কারণে ফিফা কোনো সামগ্রিক চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেনি। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় সামগ্রিক র্যাঙ্কিং দলগুলোর প্রকৃত পারফরম্যান্সের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাবে না।
একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের কাছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট কাভার করা শুধু সংবাদ সংগ্রহের বিষয় নয়; বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য, সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরারও সুযোগ। বাকুতে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের ফাইনাল পর্যন্ত লড়াই সরাসরি প্রত্যক্ষ করা এবং সেই গল্প দেশের পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে নিজের সাংবাদিকতা জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন জাবেদ আলী।
ক্রিকেট দিয়ে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার যাত্রা এখন ফুটবলের বিশ্বমঞ্চেও বিস্তৃত হচ্ছে। আর সেই পথচলায় বাকুর স্মরণীয় অভিজ্ঞতা যুক্ত করল নতুন এক অধ্যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 












