বিএসএফ জানালে খবর পেল বিজিবি, সীমান্তে ২০০ গরু পার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ডবিএসএফ জানালে খবর পেল বিজিবি, সীমান্তে ২০০ গরু পার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

রাজশাহীর পবা উপজেলার সীমান্ত এলাকার চরখানপুরে প্রায় ২০০ গরু সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিজিবি) বিষয়টি জানতে পেরেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) কাছ থেকে। বিএসএফ সীমান্ত অতিক্রম করা গরুর ছবি তুলে খবর পাঠানোর পর টনক নড়ে বিজিবির।

এই ঘটনায় বিজিবির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা, কৃষকদের নির্যাতন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) নগরীর অদূরে পদ্মা নদীর ওপারের চরখানপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, চরের ৬০ বিঘা এলাকায় একদল রাখাল গরু চরাচ্ছিল। ঘাস খেতে খেতে গরুগুলো ভারতীয় সীমানার অনেক ভেতরে ঢুকে পড়ে। বিএসএফ গরুগুলোর ছবি তুলে বিজিবিকে খবর দিলে চরখানপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ তড়িঘড়ি করে সেগুলো ফিরিয়ে আনেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সীমান্তে নিয়মিত টহল ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা বিজিবি কেন আগে থেকে বিষয়টি জানতে পারল না? যদি গরুর বদলে মাদক বা অস্ত্র পাচারকারীরা প্রবেশ করত, তবে তার দায় কে নিত?

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনার পর কৃষকদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং ‘খোয়াড়ের’ নামে বিপুল অংকের টাকা আদায় করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গরু মালিক মেরাজুল, সিজান ও আনারুলসহ অনেকে জানান, তারা সাধারণ কৃষক এবং সীমান্তের জটিল নিয়ম বোঝেন না। বিজিবির উচিত ছিল তাদের সতর্ক করা। কিন্তু তা না করে বিজিবি সদস্যরা তাদের মারধর করেন এবং গরু প্রতি টাকা দাবি করেন।

কৃষকদের দাবি, তারা সরাসরি বিজিবি সদস্যদের হাতে টাকা দিয়েছেন, যদিও বিজিবি দাবি করছে টাকা খোয়াড়ের ইজারাদারের কাছে গেছে।

টাকা আদায়ের হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার ১৮০টি গরুর বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে। অথচ বিজিবির দাবি, ১২০টি গরুর বিপরীতে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।

এদিকে খোয়াড়ের ইজারাদার সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কোনো টাকা তোলেননি; পরে গ্রামের লোকজন তাকে ১২ হাজার ৩০০ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে।

ঘটনাটি বুধবারের হলেও তা সরকারি নথিতে নথিবদ্ধ করা হয়েছে শুক্রবার বিকেলে, যা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ক্যাম্প ইনচার্জ সুবেদার সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে। তবে বুধবারের ঘটনা কেন শুক্রবার এন্ট্রি করা হলো—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

চরখানপুর গ্রামের মানুষের আয়ের মূল উৎস গবাদিপশু এবং রাজশাহীর দুধের চাহিদার বড় অংশ এখান থেকেই মেটে। সীমান্তবর্তী এই অসহায় মানুষগুলো এখন বিজিবির এমন অপেশাদার আচরণের প্রতিকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন।