English
ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড তোলপাড় : ভুয়া সনদে দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল, তিন কর্মকর্তা তদন্তের মুখে

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড তোলপাড় : ভুয়া সনদে দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল, তিন কর্মকর্তা তদন্তের মুখে

রাজশাহীতে ভুয়া শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখকের লাইসেন্স নেওয়ায় শাহীন আলী নামে এক দলিল লেখকের সনদ বাতিল করেছেন জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিক। শাহীন আলী পবা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ছিলেন, তাঁর সনদ নম্বর ১০৮।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে দলিল লেখকের লাইসেন্স নেওয়ায় তাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।”

সূত্র জানায়, শাহীন আলীর বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তাঁর শিক্ষা সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন পবা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার। যাচাইয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সনদটিকে ভুয়া বলে প্রত্যয়ন দেয়।

এরপর পবা সাব-রেজিস্ট্রার লিখিত প্রতিবেদন জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করলে আনুষ্ঠানিকভাবে শাহীন আলীর দলিল লেখার সনদ (নং ১০৮) বাতিল করা হয়।

প্রথমদিকে ওই ভুয়া সনদ যাচাই না করেই শিক্ষা বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা “সঠিক” বলে প্রত্যয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ডেপুটি কন্ট্রোলার (এসএসসি) মো. মুনজুর রহমান খান পুনঃযাচাই করে স্পষ্ট মন্তব্য দেন— “Verified and found not correct”, অর্থাৎ সনদটি ভুয়া।

ঘটনার সূত্রপাত রাজশাহীর পবা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। সেখানে কর্মরত দলিল লেখক শাহীন আলীর এসএসসি সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। সনদে উল্লেখ ছিল—রোল নং ৬২৩৭১৩, রেজিস্ট্রেশন নং ৬১৭৩৮২, পাশের সন ১৯৯৭, বিদ্যালয় দারুশা উচ্চ বিদ্যালয়।

এই সনদ ব্যবহার করেই শাহীন আলী দলিল লেখকের লাইসেন্স নিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে পবা সাব-রেজিস্ট্রার বলেন,“আমরা অনলাইন ও মোবাইলে প্রাথমিকভাবে চেক করি। সেখানে অন্য কারো নাম আসে। তাই সন্দেহ হয়। পরে লিখিত যাচাইয়ের জন্য বোর্ডে পাঠানো হয়। প্রথমে তাঁরা সঠিক মর্মে প্রত্যয়ন দিলে সন্দেহ আরও বাড়ে। আমি নিজে গেলে ডেপুটি কন্ট্রোলার বলেন, এটি সঠিক সনদ নয়। এরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

অভিযোগ উঠেছে, প্রথমবার যাচাইয়ের সময় শাহীন আলী অর্থের বিনিময়ে বোর্ডের তিন কর্মকর্তা—রেকর্ড শাখা অফিসার আলমগীর হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারজানা লতা, ও কর্মচারী মিন্টু—এর সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া সনদটিকে “সঠিক” বলে প্রত্যয়ন করান।

রেকর্ড শাখা অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, “ভুলবশত প্রত্যয়নটি দেওয়া হয়েছিল। পরে বুঝতে পারি সনদটি ভুয়া।”একই কথা বলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারজানা লতা।

ডেপুটি কন্ট্রোলার মুনজুর রহমান খান জানান, “প্রথমে রেকর্ড শাখার ভুলে এমন হয়েছে। বোর্ড তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।”

বোর্ডের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, “এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”

ঘটনাটি বর্তমানে রাজশাহীর প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, “এটি শুধু একটি সনদের জালিয়াতি নয়, শিক্ষাপ্রশাসনের নৈতিকতার ভয়াবহ সংকেত।”

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিষয়

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রতিবেদকের বিস্তারিত

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড তোলপাড় : ভুয়া সনদে দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল, তিন কর্মকর্তা তদন্তের মুখে

প্রকাশিত সময় ১০:৫৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে ভুয়া শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখকের লাইসেন্স নেওয়ায় শাহীন আলী নামে এক দলিল লেখকের সনদ বাতিল করেছেন জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিক। শাহীন আলী পবা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ছিলেন, তাঁর সনদ নম্বর ১০৮।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে দলিল লেখকের লাইসেন্স নেওয়ায় তাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।”

সূত্র জানায়, শাহীন আলীর বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তাঁর শিক্ষা সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন পবা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার। যাচাইয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সনদটিকে ভুয়া বলে প্রত্যয়ন দেয়।

সম্পর্কিত খবর
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন নাহিদুল ইসলাম সাগর
আরও পড়ুন

এরপর পবা সাব-রেজিস্ট্রার লিখিত প্রতিবেদন জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করলে আনুষ্ঠানিকভাবে শাহীন আলীর দলিল লেখার সনদ (নং ১০৮) বাতিল করা হয়।

প্রথমদিকে ওই ভুয়া সনদ যাচাই না করেই শিক্ষা বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা “সঠিক” বলে প্রত্যয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ডেপুটি কন্ট্রোলার (এসএসসি) মো. মুনজুর রহমান খান পুনঃযাচাই করে স্পষ্ট মন্তব্য দেন— “Verified and found not correct”, অর্থাৎ সনদটি ভুয়া।

ঘটনার সূত্রপাত রাজশাহীর পবা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। সেখানে কর্মরত দলিল লেখক শাহীন আলীর এসএসসি সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। সনদে উল্লেখ ছিল—রোল নং ৬২৩৭১৩, রেজিস্ট্রেশন নং ৬১৭৩৮২, পাশের সন ১৯৯৭, বিদ্যালয় দারুশা উচ্চ বিদ্যালয়।

এই সনদ ব্যবহার করেই শাহীন আলী দলিল লেখকের লাইসেন্স নিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে পবা সাব-রেজিস্ট্রার বলেন,“আমরা অনলাইন ও মোবাইলে প্রাথমিকভাবে চেক করি। সেখানে অন্য কারো নাম আসে। তাই সন্দেহ হয়। পরে লিখিত যাচাইয়ের জন্য বোর্ডে পাঠানো হয়। প্রথমে তাঁরা সঠিক মর্মে প্রত্যয়ন দিলে সন্দেহ আরও বাড়ে। আমি নিজে গেলে ডেপুটি কন্ট্রোলার বলেন, এটি সঠিক সনদ নয়। এরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

অভিযোগ উঠেছে, প্রথমবার যাচাইয়ের সময় শাহীন আলী অর্থের বিনিময়ে বোর্ডের তিন কর্মকর্তা—রেকর্ড শাখা অফিসার আলমগীর হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারজানা লতা, ও কর্মচারী মিন্টু—এর সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া সনদটিকে “সঠিক” বলে প্রত্যয়ন করান।

রেকর্ড শাখা অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, “ভুলবশত প্রত্যয়নটি দেওয়া হয়েছিল। পরে বুঝতে পারি সনদটি ভুয়া।”একই কথা বলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারজানা লতা।

ডেপুটি কন্ট্রোলার মুনজুর রহমান খান জানান, “প্রথমে রেকর্ড শাখার ভুলে এমন হয়েছে। বোর্ড তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।”

বোর্ডের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, “এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”

ঘটনাটি বর্তমানে রাজশাহীর প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, “এটি শুধু একটি সনদের জালিয়াতি নয়, শিক্ষাপ্রশাসনের নৈতিকতার ভয়াবহ সংকেত।”

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Google News
Google News-এ সর্বশেষ খবর পেতে “বর্তমান আলো” ফলো করুন