সংবাদ প্রকাশের জেরে রাজশাহীতে সাংবাদিককে হত্যার হুমকিসংবাদ প্রকাশের জেরে রাজশাহীতে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ৩ নভেম্বর পুঠিয়া থানায় এবং মিথ্যা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ৬ নভেম্বর রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

হুমকি ও অপপ্রচারের শিকার সাংবাদিকের নাম রকিবুল হাসান রকি (২৪)। তিনি পুঠিয়া উপজেলার পালোপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে এবং জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো ও স্থানীয় দৈনিক সানশাইন পত্রিকার সংবাদদাতা। এছাড়াও তিনি রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাংবাদিক রকিবুল হাসান রকি জানান, গত ২৫ অক্টোবর তিনি “হঠাৎ ধনী রিকশা চালক আবুল” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে পুঠিয়া উপজেলার পালোপাড়া সমাজের মোড় এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের সম্পদের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আবুল প্রতারণার মাধ্যমে রাজশাহী নগরীর তালাইমারী এলাকার মৃত ছোলায়মান আলীর ছেলে মোল্লা সাইফ উল মোবারকের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর ৫ নভেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতা হান্নানের মুরগির দোকানে দুই পক্ষের মধ্যে এক সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে প্রায় ১৪ লাখ টাকায় আপস-মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।

তবে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্ত পক্ষ সাংবাদিক রকিবুল হাসান রকিকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দুই পক্ষের আপসনামায় মনগড়া তথ্য যোগ করে সাংবাদিকের নাম জড়ানোরও চেষ্টা করা হয়েছে।

রকিবুল হাসান রকি বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই আমি নিয়মিত হুমকি পাচ্ছি। আমি ও আবুল একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় বাড়ির আশপাশে অপরিচিত লোকজন নিয়ে আবুল প্রায়ই ঘোরাঘুরি করছে। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকেই সংবাদটি করেছি, কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয়। কিন্তু যেভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”

তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে ফাঁসানোর বৃথা চেষ্টা সফল হবে না। সব হুমকি-ধামকি প্রতিহত করা হবে। তবে প্রকাশিত সংবাদটি, ভুক্তভোগী মোল্লা সাইফ উল মোবারক এবং ওই ক্যামেরাপার্সনের ভূমিকা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আবুলকে কেন অর্ধকোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, পরে কেন ১৪ লাখ টাকায় আপস হলো— এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “দুদকের উচিত উভয় পক্ষের আয়-উৎস ও সম্পদের উৎস তদন্ত করা।”

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “অভিযোগসহ বিষয়গুলো পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”