কেউ তাকে চেনেন অভিনেত্রী হিসেবে, কেউ ওটিটির শক্তিশালী মুখ হিসেবে, আবার কেউবা একজন স্পষ্টভাষী নারী হিসেবে। স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা। অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিজীবন, সংসার, সুখ-দুঃখ, বোহেমিয়ান সত্তা এবং পছন্দের মানুষদের নিয়েও বরাবরই নিজের মতো করে কথা বলেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি আগামীর সময়ের বিনোদন প্ল্যাটফর্মের সেলিব্রিটি টক শো ‘স্টার স্টোরিজ’-এর প্রকাশিত পর্বে নিজের জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অর্ষা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন পান্থ আফজাল।
নতুন বেশ কিছু কাজে যুক্ত হয়েছেন অর্ষা। তবে সেসব কাজের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে নারাজ তিনি। মজার ছলে জানিয়েছেন, কাজগুলোর বিষয়ে আপাতত ‘মানা আছে’ বলেই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
অর্ষার জীবনে এখন অভিনয়ের পাশাপাশি সংসারও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রায় দুই বছরের সংসার জীবন নিয়ে তার উপলব্ধি, সংসার কখনোই একরৈখিক নয়। কখনো ভালো, কখনো খারাপ—বিভিন্ন পরিস্থিতি ও বাস্তবতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমানে স্বামীকে নিয়ে ভালো আছেন বলেও জানান তিনি।
তবে সুখের সংজ্ঞা অর্ষার কাছে কিছুটা আলাদা। তার মতে, কোনো মানুষই সবসময় শতভাগ সুখী থাকতে পারে না। ব্যক্তিজীবনেও অনেক সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘অভিনয়’ করতে হয়। কারণ নিজের অনুভূতির সবটা প্রকাশ করলে অনেক সময় কাছের মানুষ কষ্ট পেতে পারেন। তাই সম্পর্ক ও পরিস্থিতি সামলাতে কখনো কখনো পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হয়। অর্ষার ভাষ্যে, কখনো তিনি সুখী, আবার কখনো একদমই সুখী নন।
নিজেকে একসময় বোহেমিয়ান হিসেবে পরিচয় দেওয়া অর্ষা এখনও সেই সত্তাকে নিজের মধ্যে ধারণ করেন। তবে একই সঙ্গে নিজেকে গোছানোর চেষ্টাও করছেন। তার ভাষায়, বোহেমিয়ান সত্তাটা তার ‘রুট’, যা গভীরভাবে ভেতরে রয়ে গেছে। মাঝে মাঝে সবকিছু ছেড়ে কোথাও নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে ইচ্ছা করে তার। সুযোগ পেলেই পাহাড় কিংবা সমুদ্রের সৌন্দর্যে ডুবে গিয়ে নিজের মতো সময় কাটান।
অর্ষার মিডিয়ায় পথচলার পেছনেও রয়েছে ভিন্ন এক গল্প। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা ও ঘোরাঘুরির প্রতি আগ্রহ ছিল তার। একই সঙ্গে অল্প বয়স থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল। স্বল্প বয়সে উপার্জন করে নিজের স্বপ্ন পূরণের চিন্তা থেকেই এমন একটি পেশা খুঁজছিলেন, যেখানে উচ্চশিক্ষার নির্দিষ্ট যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।
সেই খোঁজেই একসময় পরিচয় হয় মডেল ও অভিনেত্রী সারিকার সঙ্গে। একটি একাডেমিতে ছোট বোনের গান শেখার সূত্রে সারিকার পরিবারের সঙ্গে অর্ষার পরিবারের পরিচয় হয়। পরে সারিকার সঙ্গে আলাপের সময় মডেলিং ও অভিনয়ে আসার বিষয়ে জানতে চান তিনি। সারিকার কাছ থেকেই মডেলিং ও অভিনয়ের সম্ভাবনা এবং গ্লুমিংয়ের নানা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন অর্ষা। এরপরই শুরু হয় তার মিডিয়া জগতের পথচলা।
অর্ষার অভিনয়জীবনে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি তার অনুপ্রেরণার জায়গাতেও রয়েছে বিশেষ কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে অন্যতম অভিনেত্রী অপি করিম। অপি করিমের জীবনবোধ ও সাদাসিধে জীবনযাপন অর্ষাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে।
অপি করিমের অভিনয় প্রতিভার পাশাপাশি তার ডাউন টু আর্থ ব্যক্তিত্বেরও প্রশংসা করেন অর্ষা। মঞ্চ, টেলিভিশন ও উপন্যাসনির্ভর নানা চরিত্রে অপি করিমের বৈচিত্র্যময় কাজের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অর্ষার কাছে অপি করিম এমন একজন মানুষ, যাকে এত কাজ ও সাফল্যের পরও কোথাও দেখলে খুব আপন মনে হয়—যার মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি নেই।
অর্ষার মতে, অপি করিম যতটা ভালো পারফর্মার, তার চেয়েও বেশি ভালো মানুষ। আর জীবনবোধ ও সিম্প্লিসিটির জায়গা থেকে নিজের সঙ্গে অপি করিমের অনেকটাই মিল খুঁজে পান তিনি।
অভিনয়, সংসার, ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন, বোহেমিয়ান সত্তা ও প্রিয় অভিনেত্রীকে নিয়ে অর্ষার এমন নানা অজানা কথা উঠে এসেছে ‘স্টার স্টোরিজ’-এর এই পর্বে। পান্থ আফজালের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির পুরো পর্বটি এখন দেখা যাচ্ছে আগামীর সময় এন্টারটেইনমেন্টের পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 











