নতুন করে আলোচনায় আবীর চৌধুরীর ‘রাগী’

নতুন করে আলোচনায় আবীর চৌধুরীর ‘রাগী’

একটি সিনেমার জন্য কয়েক বছর অপেক্ষা, এরপর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি। সাধারণত সিনেমার বাণিজ্যিক যাত্রার বড় পর্ব শেষ হয় প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে সেই ধারণা বদলেছে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির দীর্ঘ সময় পর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েও যে একটি সিনেমা দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারে, তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে চিত্রনায়ক পারভেজ আবির চৌধুরী অভিনীত সিনেমা ‘রাগী’।

ইউটিউবে প্রকাশের প্রায় চার মাসের মধ্যেই সিনেমাটি ৯৫ লাখের বেশি ভিউ অতিক্রম করেছে। ফলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত এই সিনেমাটি।

২০১৬ সালে ‘রাগী’ সিনেমার শুটিং শুরু হয়। নানা জটিলতা ও প্রতিকূলতার কারণে নির্মাণ শেষে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সময় নেয়। একপর্যায়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সামনে এলেও সেখানেই শেষ হয়নি সিনেমাটির পথচলা। প্রায় চার মাস আগে এসবি মুভিসের ইউটিউব চ্যানেলে সিনেমাটি প্রকাশ করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শকদের আগ্রহ।

অনলাইনে প্রকাশের পর কয়েক লাখ ভিউ থেকে দ্রুত মিলিয়ন ভিউয়ের ঘরে পৌঁছে যায় ‘রাগী’। বর্তমানে সিনেমাটির ভিউ ৯.৫ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি হিসাবে ৯৫ লাখের বেশি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর মুক্তি পাওয়া একটি সিনেমার ক্ষেত্রে ইউটিউবে এমন দর্শক সাড়া সংশ্লিষ্টদের কাছে নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, একই সময়ের মধ্যে ইউটিউবে প্রকাশিত কয়েকটি নতুন সিনেমার ভিউয়ের সঙ্গে তুলনা করলেও ‘রাগী’র অবস্থান বেশ এগিয়ে। গত ছয় মাসে ইউটিউবে প্রকাশিত সিনেমাগুলোর মধ্যে বাপ্পী চৌধুরী ও জাহারা মিতু অভিনীত ‘শত্রু’ ছয় মাসে ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। জিয়াউল রোশান ও শবনম বুবলী অভিনীত ‘সর্দার বাড়ির খেলা’ এক মাসে ২৭ লাখের বেশি এবং শাকিব খান ও দর্শনা বণিক অভিনীত ‘অন্তরাত্মা’ এক মাসে ২৪ লাখের বেশি ভিউ অতিক্রম করেছে।

এই হিসাবে সময়ের ব্যবধান বিবেচনায় রাখলেও ‘রাগী’র ৯৫ লাখের বেশি ভিউ তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সিনেমাটি নির্মাণের এক দশক পর এবং প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির দীর্ঘ সময় পর ইউটিউবে প্রকাশিত হয়ে এমন দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সিনেমার দর্শকপ্রিয়তা শুধু মুক্তির সময়ের সাড়া দিয়ে বিচার করা যায় না। অনেক সময় প্রেক্ষাগৃহে সীমিত দর্শকের কাছে পৌঁছানো সিনেমাও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নতুন দর্শক খুঁজে পায়। ‘রাগী’র ক্ষেত্রেও তেমন একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের আগ্রহ সিনেমাটির প্রতি নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

দর্শকদের এই সাড়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ‘রাগী’র পরিচালক মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বলেন, এত বছর পরও একটি সিনেমার প্রতি দর্শকদের এমন ভালোবাসা সত্যিই আনন্দের। দর্শকদের এই ভালোবাসা ‘রাগী’র পুরো টিমকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। সিনেমাটির সঙ্গে থাকা এবং ভালোবাসা দেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বর্তমানে সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি ইউটিউব ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে একটি সিনেমার সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রেও শুধু প্রেক্ষাগৃহের আয় বা মুক্তির সময়কার দর্শক উপস্থিতিই একমাত্র সূচক নয়। অনলাইনে দর্শকের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই বিবেচনায় চার মাসে ৯৫ লাখের বেশি ভিউ ‘রাগী’র জন্য নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য সাড়া। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিয়েছে, মুক্তির সময় পেরিয়ে গেলেও একটি সিনেমা নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।