গায়িকা থেকে নির্মাতা নাজনীন হাসান খান

গায়িকা থেকে নির্মাতা নাজনীন হাসান খান

জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘এনটিভির নিমন্ত্রণে’তে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন নির্মাতা নাজনীন হাসান খান। সম্প্রতি প্রচারিত অনুষ্ঠানটির ৩২৮তম পর্বে নিজের শৈশব, সংগীতচর্চা, নির্মাণে আসার গল্প, নারীর নেতৃত্ব এবং কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

জীবনের নানা পর্যায় থেকে শুরু করে সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় নিজের কর্মগুণে অবদান রেখে চলেছেন নাজনীন হাসান খান। তিনি শুধু গৃহিণী কিংবা নির্মাতা নন, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিও রয়েছে তার দায়বদ্ধতা।

অনুষ্ঠানে নির্মাতা হিসেবে নিজেকে তৈরি করার গল্প বলতে গিয়ে নাজনীন হাসান খান বলেন, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের সান্নিধ্যে থেকেই মূলত নাটক পরিচালনার বিষয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। তার ভাষায়, “কিছু কাজের কারণে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ হয়েছিল। সেখান থেকেই মূলত নাটক পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহী হই। বলতে পারেন, হাতেখড়ি এবং অনুপ্রেরণাটা ওখান থেকেই।”

ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই গান গাইতেন। বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) থেকে নজরুলসংগীতের ওপর সার্টিফিকেটও অর্জন করেছেন তিনি। নাজনীন বলেন, “তখন তো ইচ্ছা ছিল গায়িকা হবো। (হাসি) আর এখন হয়ে গেলাম নির্মাতা।”

নির্মাণে আসার গল্প বলতে গিয়ে তিনি জানান, তার নির্মাণযাত্রার শুরু হয়েছিল লেখালেখির মধ্য দিয়ে। ২০১০ সালেরও আগে তার লেখা একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন রুমানা রশিদ ঈশিতা। এরপর নিজের মধ্যেই নির্মাণের আগ্রহ তৈরি হয়। নাজনীন বলেন, “অনেকেই তো করছে, আমি কেন পারব না—এই ভাবনা থেকেই শুরু। বিশেষ করে হুমায়ূন স্যারের কাজগুলো থেকেই আমি মোটিভেটেড হই। সমাজের প্রতিটি মানুষই একেকটি গল্প, একেকটি চরিত্র। সেখান থেকেই তো গল্প তৈরি হয়। এরপরই নাটক নির্মাণ শুরু করলাম।”

নারীদের জন্য নেতৃত্বের জায়গায় কাজ করাটা কতটা কঠিন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নাজনীন হাসান খান বলেন, নারীদের জন্য এই ক্ষেত্রটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করার পাশাপাশি একজন মা হিসেবে সন্তান ও সংসারের দায়িত্বও সামলাতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামীর যথেষ্ট উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তার মতে, স্বামীর এই সহযোগিতা তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

অ্যাওয়ার্ড অর্জন এবং বিচারকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অ্যাওয়ার্ডের জন্য তো কেউ কাজ করে না। তবে কাজ ভালো হলে যখন পুরস্কার হিসেবে প্রতিদান পাওয়া যায়, সেটা কাজের প্রতি দরদকে আরও বেগবান করে। আর বিচারকের দায়িত্ব পালন করা অনেক কঠিন কাজ। তবে আমি এই মুহূর্তে এগুলো উপভোগ করছি।”

অনুষ্ঠানের শেষদিকে পর্দার পেছনে কাজ করা মানুষদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নাজনীন হাসান খান। তাদের অবদান ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এই নির্মাতা।