চলচ্চিত্র নির্মাতা, নাট্যকার, বেতার গীতিকার, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহক এবং কবি তৈয়েব রহমানের স্মরণানুষ্ঠান গত শনিবার বিকেলে ঢাকার বাংলামোটরস্থ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কবির বন্ধুস্বজনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতার ব্যক্তিত্ব আব্দুস সবুর খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন লেখক, প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুল আখতার।
অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে কবি তৈয়েব রহমানের কর্মময় জীবন, সাহিত্যচর্চা, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সৃজনশীল অবদানের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা তাঁর ব্যক্তিত্ব, মানবিক গুণাবলি এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, তৈয়েব রহমান গত ১৮ জুন ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন।
খুলনার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন তৈয়েব রহমান। পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে সফল চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। টেলিভিশন নাটক, বিজ্ঞাপন এবং অসংখ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তিনি সৃজনশীল অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় দেশের বরেণ্য নাট্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক প্রয়াত আবদুল্লাহ আল মামুনের সান্নিধ্যে কাজ করার মধ্য দিয়ে।
কবি তৈয়েব রহমান তাঁর জীবন ও মৃত্যুর দর্শন রুবাই কবিতায় এভাবে প্রকাশ করেছিলেন—
মিছে এই দুনিয়ার আলো, মিছে এই রঙের মেলা,
ফুরিয়ে গেলেই সাঙ্গ হবে জীবনের সব খেলা।
ওপারেতে যে জন আছে পরম স্নেহে হাত বাড়িয়ে,
তাঁর কাছেই তো ফিরতে হবে এই ধূলিধাম ছাড়িয়ে।
