English
ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

রাজশাহীতে নারী-শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র : ছয় মাসে নির্যাতিত ৯৯ জন

রাজশাহীতে নারী-শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র : ছয় মাসে নির্যাতিত ৯৯ জন

রাজশাহীতে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।চলতি বছরের (২০২৫) জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অন্তত ৯৯ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (লফস)।

সংস্থার ডকুমেন্টেশন সেলের হিসাব অনুযায়ী, এ সময় নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৮ জন এবং শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩১ জন।

এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নিখোঁজ, যৌন নিপীড়ন, শারীরিক নির্যাতন, গৃহবধূ নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো ভয়াবহ অপরাধ।

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—পুঠিয়ায় আরজানা বেগম (৬৭) বিষপানে আত্মহত্যা, বাঘায় ৪০ বছর বয়সী নারী গণধর্ষণের শিকার, তানোরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মারুফা (৩০), পুঠিয়া ও বেলপুকুরে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার একাধিক অভিযোগ, নগরীতে হেলেনা আক্তার (৩৫) হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে, দূর্গাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে এক নারী খুন ও অপর এক নারী আহত, মোহনপুরে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ।

বাগমারা, তানোর, পবা ও গোদাগাড়ীতে শিশু ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, আত্মহত্যা ও নিখোঁজের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ, নগরীর চন্দ্রিমা, কর্ণহার ও দূর্গাপুর থানা এলাকায় শিশু অপহরণ, ধর্ষণ ও নির্যাতনের একাধিক ঘটনা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী (জানুয়ারি–জুন ২০২৫) হত্যা ৬টি, হত্যার চেষ্টা ৪টি, আত্মহত্যা ১৯টি, আত্মহত্যার চেষ্টা ৩টি, বলাৎকার ১টি, ধর্ষণ ১৭টি, গণধর্ষণ ২টি, ধর্ষণের চেষ্টা ৬টি, ধর্ষণের পর হত্যা ১টি, অপহরণ ৪টি, নিখোঁজ ৫জন, যৌন নির্যাতন ৮টি ও ২৩টি অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, “সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও অনেক ঘটনা রয়েছে যেগুলো চাপা পড়ে যায়।এসব ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “যৌতুক, পরকীয়া, কিশোর গ্যাং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, পরিবারে অবনতি ও শিক্ষার অভাব—এই সব মিলিয়ে রাজশাহীতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।”

লফস সংস্থা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

Author

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রতিবেদকের বিস্তারিত

রাজশাহীতে নারী-শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র : ছয় মাসে নির্যাতিত ৯৯ জন

প্রকাশিত সময় ০৯:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

রাজশাহীতে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।চলতি বছরের (২০২৫) জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অন্তত ৯৯ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (লফস)।

সংস্থার ডকুমেন্টেশন সেলের হিসাব অনুযায়ী, এ সময় নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৮ জন এবং শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩১ জন।

সম্পর্কিত খবর
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন নাহিদুল ইসলাম সাগর
আরও পড়ুন

এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নিখোঁজ, যৌন নিপীড়ন, শারীরিক নির্যাতন, গৃহবধূ নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো ভয়াবহ অপরাধ।

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—পুঠিয়ায় আরজানা বেগম (৬৭) বিষপানে আত্মহত্যা, বাঘায় ৪০ বছর বয়সী নারী গণধর্ষণের শিকার, তানোরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মারুফা (৩০), পুঠিয়া ও বেলপুকুরে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার একাধিক অভিযোগ, নগরীতে হেলেনা আক্তার (৩৫) হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে, দূর্গাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে এক নারী খুন ও অপর এক নারী আহত, মোহনপুরে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ।

বাগমারা, তানোর, পবা ও গোদাগাড়ীতে শিশু ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, আত্মহত্যা ও নিখোঁজের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ, নগরীর চন্দ্রিমা, কর্ণহার ও দূর্গাপুর থানা এলাকায় শিশু অপহরণ, ধর্ষণ ও নির্যাতনের একাধিক ঘটনা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী (জানুয়ারি–জুন ২০২৫) হত্যা ৬টি, হত্যার চেষ্টা ৪টি, আত্মহত্যা ১৯টি, আত্মহত্যার চেষ্টা ৩টি, বলাৎকার ১টি, ধর্ষণ ১৭টি, গণধর্ষণ ২টি, ধর্ষণের চেষ্টা ৬টি, ধর্ষণের পর হত্যা ১টি, অপহরণ ৪টি, নিখোঁজ ৫জন, যৌন নির্যাতন ৮টি ও ২৩টি অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, “সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও অনেক ঘটনা রয়েছে যেগুলো চাপা পড়ে যায়।এসব ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “যৌতুক, পরকীয়া, কিশোর গ্যাং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, পরিবারে অবনতি ও শিক্ষার অভাব—এই সব মিলিয়ে রাজশাহীতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।”

লফস সংস্থা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

Author

Google News
Google News-এ সর্বশেষ খবর পেতে “বর্তমান আলো” ফলো করুন