জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর খোলস বদলে সমাজসেবকের মুখোশে তারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর খোলস বদলে সমাজসেবকের মুখোশে তারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর টাঙ্গাইলে খোলস বদলে ‘সমাজসেবক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের জেলা কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ খান মেনন রাসেল ও অভিনেতা নূর মোহাম্মদ রাজ্যের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে সাংবাদিকতা ও নাগরিক সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করে তারা চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে সরাসরি অংশ নেন যুবলীগ নেতা রাশেদ খান মেনন রাসেল। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত অভিনেতা নূর মোহাম্মদ রাজ্য ‘নাগরিক সুরক্ষা কমিটি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেশায় সাংবাদিক রাসেল একটি জাতীয় দৈনিকের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে নিজের ফেসবুক পেজকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডেই বেশি সক্রিয়। সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন ‘জনকল্যাণমূলক’ কর্মকাণ্ড ও ‘জনদুর্ভোগ’ নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন সংকট ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তখন তাদের তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। তবে সরকার পতনের পর হঠাৎ বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়ে ওঠায় তাদের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাঙ্গাইলের এক সরকারি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়। পরে ভিডিও প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নতুন বাস টার্মিনাল এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মালিক। তার দাবি, সম্প্রতি ক্লিনিকটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নবজাতকের মৃত্যু হলে স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কিন্তু পরে রাসেলসহ কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে গিয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন।

অন্যদিকে, আকুর টাকুর পাড়া এলাকার এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে টাঙ্গাইল সদরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে নূর মোহাম্মদ রাজ্যের ঘনিষ্ঠতা ছিল। লৌহজং নদীর তীর উচ্ছেদের কথা বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ওই ব্যক্তির আরও দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ‘রাজ্য সিনেপ্লেক্স’ চালু করেছিলেন নূর মোহাম্মদ রাজ্য। বর্তমানে তার বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি বা চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাশেদ খান মেনন রাসেল ও নূর মোহাম্মদ রাজ্যের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।